সড়কে এক বছরে নিহত ৩৮০০ জন: নিসচা

image

সারা দেশে গত বছর সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪ হাজার ৯২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৯ জন, আহত হয়েছে ৫ হাজার ৮৫ জন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর ২০২০ সালের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিসংখ্যানটি তুলে ধরেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কিছুটা কমেছে। কিন্তু যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাও এক বছরের হিসাবে কম নয়। কারণ, গত বছরের দীর্ঘ একটি সময় করোনার কারণে জরুরি যানবাহন ছাড়া অন্যান্য বাহন বন্ধ ছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ২৩২টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজার ৮০০ জন। অন্যদিকে, রেলপথে ১০৮টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১২৯ জনের। এ ছাড়া নৌপথে ৭০টি দুর্ঘটনায় মারা গেছে আরও ২১২ জন।

সড়কপথে দুর্ঘটনার জন্য সড়কের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব, চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, মহাসড়কে ত্রুটিসহ বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে নিসচা। নিসচা বলছে, সড়কে দুর্ঘটনায় যেসব বাহন দায়ী, তার মধ্যে প্রথমে আছে মোটরসাইকেল। এরপর আছে ট্রাক, তৃতীয় অবস্থানে বাস। দুর্ঘটনায় নিহত চালকদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি এসেছে মোটরসাইকেলচালকদের নাম।

এ ছাড়া মাসের হিসাবে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যানে গত বছর সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা জেলায়। ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায় ২৩৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩৬৭ জন। এরপর আছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলা। দুর্ঘটনা সবচেয়ে কম হয়েছে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায়।

এলাকাভিত্তিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পার্বত্য এলাকায় চালকেরা যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সাবধানে গাড়ি চালান। এ জন্য পার্বত্য জেলাগুলোয় দুর্ঘটনা কম। একইভাবে অন্য জেলাগুলোয় সাবধানতার সঙ্গে যানবাহন চালালে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে নিসচার মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক, যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ, ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।